শহীদ আবরার ফাহদকে নিয়ে তার ছোট ভাইয়ের কিছু লেখা।
চলুন একটু কল্পনা করি-
মৃত্যুর আগে কী মনে হয় নি,"আমি এখানে এত স্বপ্ন নিয়ে পড়তে আসলাম, সবার সাথে তর্ক করলাম বুয়েট বেস্ট, এখন এখান থেকে আমার লা*/শ যাচ্ছে! আজব অথচ, সেইদিন ভেবেছিলাম দেশের সবচেয়ে নিরাপদ ভার্সিটি তে আছি। বাবা-মাকে তো লজ্জায় মুখও দেখাতে পারব না। সেইদিন যদি মেডিকেল বা ঢাবি তে ভর্তি হতাম, তাহলে তো অন্ধ বিশ্বাস করতাম না বন্ধুদের। বাসায় রুমমেটদের নিয়ে বললাম ওরা ২জন থাকতে আমার কিছু হবে না, বারবার নম্বর চাইলো ওদের ভরসায় নম্বর ও দিলাম না।। সত্যি আমাকে তোরা চিরদিনের জন্য সবার থেকে দূর করে দিলি।"
.
বুয়েটের অনেকেই আমাদের কাছে ক্ষমা চান আনুষ্ঠানিকতার জন্য কিন্তু বিশ্বাস করেন আমরা কোনোদিন আপনাদের উপর ভরসা করিনি। আমরা অনেক আগেই জানি এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা । কিন্তু যে আপনাদের উপর ভরসা করেছিলো সবচেয়ে বড় মূল্য তাকেই দিতে হয়েছে।।। অবশ্য ভাইয়া আপনাদের হয়তো আগেই মাফ করে দিয়েছে।।ছেলেটা সবচেয়ে বড় দূর্ভাগা সবাই বুয়েট থেকে বের হবে কিন্তু তার আর বের হওয়া হলো না।দুনিয়ায় বড় হতেই দেখে গেলো সবাইকে কিন্তু সব যোগ্যতা থাকলেও নিজে কিছুই করতে পারলো না।
.
অনেক কষ্ট করে প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের টাকায় একটা ফোন কিনলো এক বছর আগে,,, আর সেইটাই কিনা মৃ*ত্যুর কারণ হলো।। আমি ফোন কেনার সময় বার বার বললো তুই আমার টা নে আমি একটা নতুন কিনি।
.
ভাইয়া আমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কিছুই নাই,,, আর অন্যায় যার সাথে করছেন সে এখন অনেক দূরে। পারলে তার কাছে চাইয়েন। তবে ঠান্ডা মাথায় ভাবলে ক্ষমা করা কতটুকু যৌক্তিক সন্দেহ হয়।🙂
লেখা : আবরার ফায়াজ
(শহীদ আবরার ফাহাদের ছোট ভাই)


কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন